কক

পত্রা

তারিখ

প্রদানের গ্রহণের তারিখ

পঙাঙ্ক :

পু

আক্ষাহ্বী ম্িন্বেক্ান্মল্ছ্

বাজলায় উনবিংশ শতাব্দী

শ্রীগিরিজাশঙ্কর রায়চৌধুরী

ভদ্ব্বোঞন্ন শঙগার্খ্যাভলক্ বাগবাজার, কলিকাতা

মুল্য চারি টাক! মাত

প্রকাশক ২৮-২-বি, মহ্িম হালদার সীট কালীদাট।

শ্ীগোরাঙ্গ প্রেস, প্রিন্টার-_স্থরেশচন্্র মজুমদার, ৭১।১নং মিজ্জাপুর স্রীষ্, কলিকাত।।

৯৫৪২৬

রী ঘর সেন, আই সি এস করকমলেষু__

ভূমিকা

এই পুস্তকের দ্বা্শটি বক্তৃতায় উনবিংশ শতাহদীতে বাজলাদেশে ধর্ম সমাজ-সংস্কারের যে আন্দোলন হইয়াছিল, তাহার একটি ধারাবাহিক ইতিহাস আলোচনা! কর! হইয়াছে সাহিতা, দর্শন) রাজনীতি, অর্থনীতি প্রতৃতি সমাজের ন্তান্ত বিভাগের সমস্াগুলি, গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে, এই আলোচনার অন্তভুক্ত করিতে পারি নাই। বিশেষতঃ সমাজ- জীবনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্য পরস্পর অঙ্গাঙ্গী যোগ থাকা সত্বেও, সকল বিভাগের পৃথক স্বাধীন আলোচনা বিজ্ঞান-সম্মত সম্ভব মনে করিয়া__ক্রমে তাহার আলোচনা করিব_আশা করিতেছি। ব্যক্তি লইয়াই সমাজ তথাপি বাক্তিত্বকে জ্মতিক্রম করিয়াও সমাদ্রের একটা পৃথক্‌ অন্তিত্ব জাছে, জীবন আছে, গতি আছে। গত শতাষীর আলোচনায়- রামমোহন হইতে বিবেকানন পধ্যস্ত মহাপুরুষদিগের প্রথর ব্যক্তিত্বের উপর, এবং ততিরিক্ত সমাজের পৃথক্‌ প্রাণ-শক্কি গতির উপর সমানভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করিবার চেষ্টা করিয়াছি।

বাঙগলাদেশের উনবিংশ শতাধীই মুখ্যতঃ এই বক্তৃতাগুলির আলোচ্য। এই শতাব্দীতে রামমোহন হইতে জারস্ত করিয়া বিবেকাননা পর্যন্ত ধর্ম সমাজ-সংস্কার সম্পর্কে চিন্তার যে অবিচ্ছিন্ন একটি ধার! রহিয়াছে, জামি তাহাকেই জনুসরণ করিয়াছি এই শতাব্দী একটি সভ্য জাতির সত্যতার সংস্কারে প্রবৃত্ত হইয়াছিল। এই দিক দিয়া দেখিতে গেলে) গ্রন্থের আলোচা সংস্কারের ধাঁরা কেবল উনবিংশ শতাব্দীতেই আরম্ত কিংবা শেষ হয় নাঁই। বাক্তি বা জাতির হধ্যে কোন নূতন চিন্তা বা ভাবরাশি সন তারিখ দেখিয়া আরম্ভ হয় না। ইতিহাসের পথে অবিচ্ছি্ন এক বা একত্রে বছ, ধারা অব্যাহত রাখিয়া মাঝে মাঝে নৃতন তরঙ্গ তুলে মাত্র এই প্রসঙ্গ গরস্থের নবম বক্তৃতায়, যোড়শ হইতে উনবিংশ শতাষী পর্যন্ত

5/৩

বাঙ্গালী*সভ্যতার এক অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হইয়াছে অন্ত দিক দিয়া যদি দেখা যায়, তবে অষ্টাদশ শতাব্দী শেষ হইবার অন্ততঃ দশ বৎসর পূর্বেই রামমোহনের চিন্তা নবোদিত সুর্যের মত রক্তিম হইয়া দেখা দিয়াছে__এবং উনবিংশ শতাব্দী শেষ হইয়া গেলেও বিবেকানন্দের প্রতিভা নির্বাপিত হয় নাই,-দীপ্তি পাইতেছে।

একদিকে শ্বদ্েশীয় রক্ষণর্ীল পণ্ডিতগণ অতীতের দিকে মুখ ফিরাইয়! দাড়াইয়। মরিতে ইচ্ছুক) অন্থদিকে আধুনিক পাশ্চাত্য ভাবাপন্ন শিক্ষিত ব্যক্তিগণ ঘর ছাড়িয়া একেবারে বাহিরে যাইবার জন্য উন্মনা স্থতরাং উনবিংশ শতাবীর চিন্তার ধারা, এতিহাসিকের নিকট বিশেষ অভিনিবেশ সহকারে অনুধাবন করিবার বিষয় শতাব্দীর মধ্যভাগে, মহবি দেবেন্দ্র নাথ_ অক্ষয়কুমার-_রাজনারায়ণ-__-বিদ্যাসাগর-_-কেশবচন্দ্র এবং শেষ ভাগে পরমহংস রাষরুষ। পণ্ডিত বিজয়কৃষ্ণ প্রভৃতি শতাব্দীর ইতিহাসে চিরপৃজ] প্মরণীয় ব্যক্কিগণ, কে কি ভাবে কোন দিকে চিন্তার ধারাকে চালিত করিয়াছেন বথাক্রমে তাহার আলোচন! করা হইয়াছে।

এই শতাব্দীকে যেরূপভাবে ভাগ করা! হইয়াছে তাহা আমার নিজের ধারণার বশবর্তী হইয়াই আমি করিয়াছি পুরাণ এবং তন্ত্রের যুগকে আমি কথঞ্চিৎ বিস্বৃতভাবে আলোচনা করিয়াছি। কেননা উনবিংশ শতাবী হইতে এখনো পধ্যন্ত বাঙ্গলাদেশে পুরাণ তন্ত্রের যুগ আপামর সাধারণের মধ্যে রাজত্ব করিতেছে।

এই বক্তৃতাগ্ডলি ৯১৪ বৎসর পরে ছাপ! হইল। ছাপাইবার পূর্বে কোন কোন স্থানে সংশোধন পরিবর্তন করিয়াছি শতাব্দীর আলোচনায় আমার ষে মত তাহার বিশেষ পরিবর্তন হয় নাই। গ্রঞ্ছে অনেক ভ্রুটি রহিয়া গেল। সমগ্র ভারতবর্ষে হিন্দু-সভ্যতা এক অতি জটিল ব্যাপার। প্রত্যেক প্রদেশের হিন্দু-সভ্যতার একটা স্বাতন্তা বা বৈশিষ্ট্য আছে গত শতাবীর আলোচনায় বাঙ্গালী-সভ্যতাকে ভারতের অস্ঠান্ত প্রদেশের হিন্দুসভ্যতার সহিত তুলনা-মবলক বিচার করিতে পারি নাই। ভারতের হিন্দু মুসলমান সভ্যতা একে অন্তকে কিরূপভাবে প্রভাবান্বিত করিয়াছে তাহারও বিশ্লেষণ করি নাই।' অথচ, বাঙ্গালী-

মভাতার সহিত ইহাদের একট! ঘনিষ্ট যোগন্ুত্র আছে কেননা, সমগ্র হিন্দু-সভযতাই একটা অখণ্ড বস্ত-_একটা জীবন্ত প্রাণিবিশেষ। প্রদেশ ভেদে উন্নতি বা অবনতির পথে শ্তরভেদে হিন্দু-সভ্যতা বহুমুখী ধারায় প্রবাহিত হইয়া চলিয়াছে,__আজও চলিতেছে বাঙ্গলাদেশের যে ধার! আমি তাভারই আলোচন! করিয়াছি মাত্র।

১৯১৮ ১৯১৯ খুঃ যথাক্রমে দশটি বন্তৃত! বিবেকানন৷ সো়াইটির আয়োল্রনে, কলিকাতা খিওজফিক্যাল সোসাইটির গৃহে আমি পাঠ করি ১৯২৬ খৃঃ নবম একাদশ এই দুইটি বক্তৃতা লিখিয়াছি “বঙ্গবাণী” মাসিক পাত্রকায় ছাপা হইয়াছে।

এই বক্তৃতাগুলি ছাপা হইবার সময় প্রথম দিকে “আননাবাজার পত্রিকাপ্র সম্পাদক শ্রীমান সতোন্দ্রনাথ মজুমদার এবং শেষের দিকে “আত্ততোষ কলেজে”র অধ্যাপক শ্রীযুক্ত কুমুদচন্ত্র রাঁয়চৌধুরী মহাশয় ইহার প্রশ্ষ. সংশোধন করিয়া আমার কৃতন্ততাভাজন হুইয়াছেন। বিবেকানন। সোসাইটির যে সকল সভায় আমি এই বক্তৃতাগুলি পাঠ করিয়াছি, তাহাতে শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত হীরেন্্রনাথ দত্ত+_ শ্রীযুক্ত ঢারুচন্ত্ বন্থু-_মহামহোপাধ্যা় পণ্ডিত শ্রীপ্রমথনাথ তর্কভূষণ, ৬মহামহোপাধ্যায় যাদবেশ্বর তর্করত্ব, ৬মহামহোপাধ্যায় সতীশচন্ত্র বিদ্যাভূষণ, ৬পাচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় ৬মুরেশচন্ত্র সমাজপতি সভাপতির আসন গ্রহণ করিয়া আমাকে সম্মানিত করিয়াছিলেন। তাহাদের উদ্দেশে আমি অন্তরের রুতভ্ততা জালাইতেছি। ইতি

ভবানীপুর, বিনীত-_ ১লা ফেব্রুয়ারি। ১৯২৭। গ্রন্থকার

সূচীপত্র

প্রথম বক্ততা

্বত্রন্ধণা আয়ার মান্্রাজের যুবকগণ- উনবিংশ শতাবীর জাতীয় চাঞ্চলোর কারণ-_জাতীয় চাঞ্চলোর লক্ষণ গতি__উনবিংশ শতাবীর প্রথম ভাগ_দ্বিতীয় তৃতীয় ভাগ-_চতুর্থ ভাগ, ... পূঃ১_৩২।

দ্বিতীয় বক্ততা

সংস্কার-যুগের অবলান,_সমন্বয়-যুগের অভ্যুদয় -_রামন্ষযুগ সমন্বয় বুগকি, না1--ব্রাঙ্ধ সংস্কার-যুগ সম্বন্ধে স্বামী বিবেকানন্দের উত্তি-_

পৃঃ ৩৩--৫৮ | তৃতীয় বঞ্ততা বেদের আলোচনা বেদের প্রামাণা__পুরাগ তত্বের আলোচনা, " পৃঃ ৫৯৮৯ চতুর্থ বক্ত তা পৌর়াণিকমুগে ক্তিবাদ-_রাজা রামমোহনের শীমন্াগবত ব্যাখা_ তজিধর্ম্বর গোপীপ্রেম, রঃ পৃঃ ৯০--১১৬। পঞ্চম বক্ত.তা পুরাণ তন্ত্রের যুগ সম্বন্ধে সংস্কার সমন্বয় যুগ-_পুরাণ তন্ত্রের দেবদেবী__মন্্বিদযা-_অবতারবাদ। পৃঃ ১১৭--১৪৯। ষ্ঠ বক্তৃতা

ু্বিপূজা,_সংস্কারুগ--রামরষ্-বিবেকাননদ-যুগ__রামষোহন বিবেকানন্দ, রঃ পৃঃ ১৫৪--১৯০।

1%5

সপ্তম বক্ততা স্বামীঘীর মতবাদ আলোচনার প্রণাঁলী-_অধৈৈতবাদ-_নীতিবাদ. -পাপবোধ-_বাষ্টি সমষ্টি মুক্তি, 2 পৃঃ ১৯৯--২২২। অষ্টম বক্তৃতা

উনবিংশ শতাব্দী বেদান্তের যুগ কি, লা ?__সমাজ-স'স্কার__অদ্ৈত- বাছ মায়াবাদের ভিত্তি, রামমোহন-_-সমাজ সংস্কারে বিদ্যাসাগর-_ পৃঃ ২২৩--২৬৩।

নবম বক্তৃতা উনবিংশ শতাব্দীর যোগস্ুত্র, রামমোহন বিবেকানন্দ-_ বঙগালী- সভাতার বিশেষত্ব কি ?--যোড়শ শতাদ্দীর বাঙ্গালী-সভাতা__: বিংশ

শতাব্দী বাঙ্গালী-সভ্যতা, রঃ পৃঃ ২৬৪-- ৭। দশম বক্তৃতা ইতিহাস মালোচনা--সঙ্গীত, শিল্প সাহত্য--প্রাচা পাশ্চাতা, টা পৃঃ ৩০৮--৩৪৮ ! একাদশ বক্ত্‌তা

উনবিংশ শতাব্গীতে বাঙ্গলাদেশে নারীন্রাতি সম্পর্কে আন্দোলন,__ ষোড়শ হইতে অষ্টাদশ শতান্দী,__উনবিংশ শতাবী ১৮০*__১৮২৫ (সংস্কার-যুগ উনবিংশ শতাব্দী ১৮২৫--,৭৫ (সংস্কার-যুগ ),__-উনবিংশ শতাবী ১৮*৫--১৯** (সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া অথচ সমন্থয় যুগ) টু পৃঃ ৩৪৯--৩৮২।

দ্বাদশ বক্ততা

স্বামী বিবেকানন্দ__তাহার ধর্্জীবনের ক্রমাবকাশ,_ মানসিক বিকাশের পথে মুস্তিপৃক্ণার তিনটি স্তর-_স্থিতি, বিচ্যুতি, পুনঃসংস্থিতি।__ ব্রাহ্মসমাজে ফোগদান,_-পরমহংসদেবের সহিত সাক্ষাৎ,_অধৈত বেদান্ত

1৩/৯

অবিশ্বাস।_ভারত-ত্রমণ, _ডিকাগো ধশ্রসহায়তা,_ অন্বৈত বেদাস্ত প্রচার -ক্ষীর-ভবানীর মন্দিরে দৈববাণী,_-কর্ম্জীবনের অদ্ভুত পরিবর্তন,--

লমাধির অবস্থার পূর্ববাভাষ, পৃঃ ৩৮৩--৪১৭ |

/

ন্ 5২৬ - রর

ন্

৪০

প্রথম বক্তৃতা

্তার স্ত্হ্ষণ্য আয়ার মান্্রাজের যুবকগণ

সাক্ষাৎ শিবতুলা স্বামী বিবেকানন্দের অদ্ভুত জীবনের আলোচনা প্রসঙ্গে, বাঙ্গালী মাত্রেরই মান্দ্রাজের যুবকগণ বিশেষভাবে ৬ন্তার & হৃত্রক্ষণ্য আয়ার মহোদয়ের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা! প্রকাশ করা উচিত। খেতড়ির মহারাজা অজিত সিংএর নামও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কেন না” ইঁহারাই স্বামিজীকে ২৫ বৎসর পূর্বে আমেরিকা যাওয়ার পথ প্রশস্ত করিয়া! দিয়া, তাহার অত্যুদয়ের তাহার পৃথিবীব্যাপী প্রচার-ব্রতের সূত্রপাত করিয়া দিয়াছিলেন। ম্বামিজী নিজেই বলিয়াছেন,__

“মান্রাজের যুবক, তোমরাই প্ররুতপক্ষে সব করিয়াছ_আি সাক্ষীগোপাল মাত্র ।” মান্দ্রাজের ভিক্টোরিয়া হলে বক্তৃতায় তিনি বলিয়াছেন, “আমি মাক্রাজের কয়েকটি বন্ধুর সাহায্যে আমেরিকায় পৌছিলাষ। তাহাদের মধ্যে অনেকেই এখানে উপস্থিত আছেন...

* ১৯১০্রষ্টা্দের ডিদেখর মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উইলসনকে ইমি চিল লেখাতে গভর্ণমেপ্ট অসন্তুষ্ট হয়েন। জজ হুবরদ্ষণা আয়ায় তৎকালীন গণমেন্টের এই কার্ধ্যের প্রতিবাদব্বরপ স্তার উপাঁধি ত্যাগ করেন 78557 ৮1৪৫ মিজিটের সময় পরলোক গরম করিয়াছেন রি

বাঙ্গালীর কৃতজ্ঞতা

নে

স্বামী বিবেকানন্দ? কেবল একজনকে অনুপস্থিত দেখিতেছি-_-অজ সুত্রঙ্ষণয আয়ার। আর আমি এই ক্ষেত্রে উক্ত ভদ্রমহোদয়ের প্রতি আমার গভীরতম ক্কতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। তাহাতে প্রতিভাশালী পুরুষের অন্তদৃষ্ট বিস্কমান,_আর জীবনে ইহার ন্যায় বিশ্বাসী বন্ধু আমি পাই নাই,__ তিনি ভারতমাতার একজন বথার্থ স্ুসম্তান” |

ইতিহাসে যাহা ঘটে তাহার সমস্ত কারণ আমাদের দৃষ্টির সামার মধ্যে আনিয়া ধরা যায় না। কার্ধ্য-কারণ-সম্পর্কে এঁতিহাসিক ঘটনাবলীর দৃশ্ট কারণই আমাদের আলোচ্য বিচাধ্য অদৃশ্য কারণ মামাদের জ্ঞানের বহিভূর্তি। আমাদের জ্ঞানের পরিধি সহসা কোন আশ্চর্য্য ইতিহাসের দৃশ্ত উপায়ে পরিবর্তিত না৷ হইলে,__এবং সিদ্ধ মহাপুরুষ বা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাদের আবির্ভাব ব্যতিরেকে,_এঁতিহাসিক ঘটনার অদৃশ্য কারণ সম্বন্ধে আমাদের মত সাধারণ মনুষ্যাকে চিরকালই বনু পরিমাণে অজ্ঞান অথবা সংশয় তিমিরে আচ্ছন্ন থাকিতে হইবে অথচ স্থষ্টির মূলদেশে, আমাদের চক্ষুর অন্তরালে, কি শক্তির ক্রিয়া চলিতেছে যাহাতে মহাপুরুষেরা যুগে যুগে সংসার-রঙ্গমঞ্চে আসিয়া একের পর আর আবিভূ্তি হন। সেই অদৃশ্য শক্তি, সেই অদৃশ্ট কারণকে আমরা সম্পূর্ণরূপে জানিতে না পারিলেও-_ তাহার অস্তিত্বে অবিশ্বাস করি কি করিয়া ?

বাঙ্গালীজাতির মধ্যে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে» স্বামী বিবেকানন্দের মত মহাপুরুষের আবির্ভাবের কারণ ষে কি,_কি অদৃশ্ট শক্তির প্রেরণায় যে তিনি একদিন আমাদের মধ্যে আসিয়া! দাড়াইলেন_-তা সেই অদৃশ্ট শক্তিই জানেন। শুধু--বাহা দেখিতে পাই,_এমন সব ঘটনার-_পূর্ববাপর

হু

বাধন শশী ংযোগ করিয়া,__তাহার উপদেশের সহিত তাহার কালের থে: অভি প্রায়টি,_তাহার কোথায় মিল আর কোথায় বিরোধ,-- : থুজিয়া লইয়1,_তাহার আগমনের,ভীহার জীবনের, . মিনি ঠাহার প্রচারের সাফল্য, এবং কোথায় ঠা কারণ কতদূর পরধান্ত তাহা বিস্তৃত-_বুঝিবার ধ্ঁতিহাপিকের চক্ষে চেষ্টা করি। স্থতরাং আমাকে আবার কতক জেয এবং. বলিতে হইতেছে যে স্বামী বিবেকানন্দের সন আবির্ভাবের দৃশ্ব কারণ তাহার ফলই আমাদের মুখ্য আলোচ্য ..অদৃশ্য কারণ সম্বন্ধে অবিশ্বাসী না হইয়াও আমরা-_শীরব থাকিতে বাধ্য রি ইতিহাস আলোচনায় দেখা যায়,__মানুষের চিতা ও. ভাবনা সকল মত্যন্ত সংক্রামক মনুষ্য উদ্ভাবিত এই অমস্ত চিন্তা ভাবরাশি এক যুগ হইতে অম্ যুগে, যুগপ্রবর্তৃক হি মহাপূরষের লক্ষণ। এক দেশ হইতে অন্য দেশে সংক্রামিত হয়। এই সমস্ত ভাবরাশি গতিশীল, তাহারা কোথায়ও স্থির থাকে না। স্থানে কালে-- অবস্থাভেদে--নানারূপ পরিবর্তনের মধ্য দিয়া-_তাহারা উত্তরোত্তর ছড়ায়! পড়ে। কোন বিশেষ জাতিতে বিশেষ ষুগে”যে সকল মনুষ্যের মধ্যে এই সমস্ত বিক্ষিপ্ত ভাবরাশি একক্রিত হইয়া সংহত হয়,-সেই সমস্ত মনুয্যেরা! সেই জাতির সেই যুগের--সংহত ভাব রাশির স্োতক প্রকাশক বলিয়া, যুগপ্রবর্তক মহাপুরুষ রূপে গৃহীত হন। রি উনবিংশ শতাব্দীর উন্মেষ কাল হইতেই_বাজালী জাতির মধ্যে কতকগুলি নৃতনভাবের প্রেরণা আসিয়া দেখা দেয়।

চি

স্বাদী বিবেকানদদ এই সমস্ত ভাবরাশি ক্রেমে শতাববীকাল ধরিয়া,__ভিন্ন ভিন্ন মহাপুরুষের মধ্যে, প্রকৃতিভেদে- পরিবর্তিত আবর্তিত হইয়া একদিন কিরপে ব্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে আসিয়া কেন্দ্রীভূত হইয়াছিল,এবং স্বামী বিবেকানন্দের মহাপুরুষগণ জীবনে তাহ! কি রূপ স্থুর পাইয়া__ জঙ্গ বিশেষ জাতীয় জীবনের গন্িকে কোন পথ হইতে কোন পথে চালিত করিয়াছে,__তাহা৷ আমরা

বুঝিবার চেষ্টা করিব। ভাৰই জাতিকে চালিত করে। নৃতন নৃতন ভাবের বত্্যুদয় হইতেই নূতন নূতন যুগের সুন্রপাত হয়। বনুবিচিত্র নূতন ভাবের সমাবেশ যে জীবনে দেখা যায়, তিনিই মহ্থাপুরুষ বলিয়া সম্মানিত হুন। মহাপুরুষেরা মছান্‌ মান ভাব দ্বার চালিত হন মাত্র। এবং তাহাদের অন্ভাদয়ের সহিত জাতির অভ্যুদয় হয়ঃ_ঙাহাদের গতি : মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে জাতিও গতি-যুক্তি লাভ করে। কেন না! মহাপুরুষের৷ জাতীয় শরীরের শ্রেষ্ঠ অঙ্গ বিশেষ

বাঙ্গালী জাতির মধ্যে, গত এক শতাব্দীর এইরূপ ভাবরাশির গতিবিধি পর্য্যালোচনা করিয়া,২:কোন্‌ কোন্‌ মহথাপুরুষের মধ্য দিয়া, কোন্‌ কোন্‌ ভাব কিরূপে স্বামী বিবেকানন্দে আসিয়া পৌঁছিয়াছে-_মুখ্যতঃ তাহাই আমাদের আলোচা। |

অথচ কার্ধ্য-কারণ-সম্পর্কে আমরা কিছুই উপেক্ষা করিতে পারিনা বলিয়াই, তাহার মহৎ জীবনের অভ্যুদয় যে ঘটনা বারা সন্তাবিত হুইল,--সেই আমেরিকা গমন সম্পর্বেত__ মহাদুভব তবিষাদূি সম্পন্ন_ন্তার ুতক্ষণ্য আয়ার

তাহার সহযোগীষে্__সময়োপযোগী উৎলাহ জহায়জা, আমরা বাঙ্গালীরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞচিত্ে স্মরণ না করিয়া থাকিতে . পারিনা পূ

উনবিংশ শতাব্দীর জাতীয় চাঞ্চল্যের কারণ

আমরা উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম হুইতেই-বাঙ্গাঙ্গী জাতির মধ্যে যে চাঞ্চল্য লক্ষা করি, তাহার কারণ কি? ইহার ছুই প্রকার কারণ নির্দেশ করা যাইতে পারে। এক স্বাভাবিক অর্থাৎ ভিতরের কারণ”--আর কৃত্রিম অর্থাৎ বাহিরের কারণ। প্রত্যেক জীবন্ত জাতিই গতিশীল,_-

চঞ্চলত1 তাহার জাবনের লক্ষণ চঙ্গিবার পথে প্রত্যেক : .

জাতিই একবার নিজকে সন্কোচন করে,_মআবার নিজকে সম্প্রসারণ করিয়া চলে। যখন এই সম্প্রসারণের জিয়া . ভিতর হুইতে স্বাভািক নিয়মে আরম্ত হয়,--তখন জাতির উপরিভাগে চাঞ্চল্য দৃষ্ হয়। উদবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ বাঙ্গালী জাতির এইরূপ একটি সম্প্রদারণ করিয়া চিধার কাল। ইহার কিছুদিন পূর্বব হইতেই বাঙ্গালী জাতির সঙ্কোচনের কাজ শেষ হইয়া আসিতেছিল। ফাঞন্জেই নিজের স্বভাব হইতেই, ভিতর হুইতেই-_বাঙ্গালী জাতি উনবিংশ শতাব্দীতে প্রথমে নিজকে আর একবার সম্প্রসারণ করিবার চেষ্টা করিত্তেছিল। ভিতরের দিক হুইতে জাতীয় চাঞ্চল্যের ইছাই স্বাভাবিক কারণ। রি |

স্বামী বিবেকানন্দ

প্রত্যেক জাতিই গতিমুখে তাহার আত্মক্বতাবকেই বিকাশ করে সতা, কিন্তু প্রত্যেক জাতিরই খজু-কুটিল গতি বহু পরিমাণে তাহার সামফিক পারিপার্শিক অবস্থা ঘটনা দ্বারা নিয়মিত হয়। বাঙ্গালী জাতি উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমে তাহার জীবন ধর্্ের__তাহার স্াবধর্ম্ের অসুবর্তী হইয়া পুনরায় যুগে আর একবার আত্মপ্রকাশের জন্য চঞ্চল হইয়া উঠ্িয়াছিল। তথাপি তাহার তৎকালীন বাহিরের অবস্থা ঘটনা, এই জাতীয় চাঞ্চলোর আকার প্রকৃতিকে বহু অংশে নিয়ন্ত্রিত টি তর করিয়াছে, সন্দেহ নাই। পলাশীর যুদ্ধের বাঙ্গালী জাতির পর হইতেই বাঙ্গলাদেশ তৎসঙ্গে সমস্ত উপর পাশ্চাত্) ভারতবর্ষ, ইংলগ্ডের শাসনতন্ত্রে ক্রমে আবদ্ধ জানিনা নিবদ্ধ হইয়া পড়িয়াছে। ইংলগ্ডের সহিত সমগ্র ইউরোপ পাশ্চাত্য জাতিসমূহের একটা সাধারণ ভাবগত সাদৃশ্য আছে। ইংলগ্ডের সহিত আমাদের রাজ" গ্রজা,_বিজেতা বিজিত-_এই সম্পর্কের ভিতর দিয়ী শুধু ইংলগু নয়»_সমগ্রা পাশ্চাত্য জাতির ভাব আদর্শ__ বাঙ্গলাদেশের উপরে আসিয়া নিপতিত হইয়াছে পাশ্চাত্য জাতির আদর্শ অনেক স্থলেই আমাদের সভাতার আদর্শ হইতে দ্তন্ত্। আর পাশ্চাত্য জাতিসমূহ,__হয় আমাদের রাজা, না হয় রাজার সগোত্র আমরা পরাজিত পদদলিত মুমূর্ষু একট: নিঃসহায় প্রাচীন জাতি। এইরূপ অসমান অবস্থায়, ভাগ্যাধনে নিপাতিত, বাঙ্গালী জাতির উপর, পরাক্রমশালী একটা বিরুদ্ধ সভাতা তাহার স্বতন্ত্র আদর্শ লইয়া নিদারুণ ভাবে আঘাত করিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ হইতে

বাঙ্গলায় উনবিংশ শততাত্বী

যে চাঞ্চল্য আমাদের মধ্যে দৃষট হয়, তাহার আকার প্রকৃতি এইরূপে বহু পরিমাণে পাশ্চাতোর আঘাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইতে বাধা হইয়াছে এই বাহিরের, এই উনবিংশ শতাব্দীর পাশ্চাত্যের, এই বিরুদ্ধ শক্তির আঘাত রা রে জনিত যে চাঞ্চলা, তাহা কৃত্রিষ উপায়ে প্রস্থত। প্রসূত কৃত্রিম চাঞ্চলা বাহির হইতে আঘাত আসিতে পারে, শক্তি ভিতরের আঘাত

শক্তি নহে, শক্তির উদ্বোধনে কিঞ্ি সহায়তা করিতে পারে। আবার বাধাও জন্মাইতে পারে

অনেকের বিশ্বাস যে ইংরেজ আগমনই আমাদের যুগে জাতীয় জাগরণের একমাত্র কারণ। আমাকে ছুঃখের সহিত বলিতে হইতেছে যে, এই বিশ্বাসের মুলে বিশ্লেষণমূলক বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ অতি অল্প বিষ্ধমান। ইহা এক প্রকার অনুমান এবং সব্ধাংশে সতা অনুমান নহে। ইংরেজ বা পাশ্চাত্য জাতির আঘাত-_-আঘাত মাত্র আঘাত জাগরণ নহে। জাগরণ জ্ঞাতির নিজের বাহিরের এই কুত্রিম আঘাতে আমাদের জাগরণে সহায়তা করিয়াছে, ইহাও অবিমিশ্র সত্য নহে। কেন না এই বিরুদ্ধ শক্তির আঘাত যে শতাব্দীকাল ধরিয়া জাতির স্বাভাবিক বিকাশ জাগরণকে কত দিকে কত মতে বাধ দিতেছে, তাহা মিথ্যা নহে, তাহা অনুমান নহে, তাহা প্রত্যক্ষ |

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পাশ্চাতা সভাতার প্রবল আঘাত আক্রমণ একদিকে, আবার অন্য দিকে জাতির

উহ্থা জাগরণ নহে।

রণ

স্বামী হিবেকাননা

্াভাবিক জাগরণ এবং পাশ্চাত্যের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার

নানাবিধ উদ্ভম ; এই বিপরীত শক্তির বিরুদ্ধ রা টানে আবর্তিত হইয়া যে সমস্ত চাঞ্চলা এবং ছুই বিপরীত বাঙ্গালী জাতি বিগত শতাব্দীতে প্রকাশ শক্তির বিরুদ্ধ টানে করিয়াছে, সেই চাঞ্চলোর ইতিহাসই রা চাঞ্চলোর বাঙ্গালীর উনবিংশ শতাব্দীর সংস্কারযুগের

ইতিহাস এই ইতিহাসের সহিত স্বামী বিবেকানন্দের স্মরণীয় জীবনকে মিলাইয়া! দেখিবার জন্য চেষ্টা করিব

জাতীয় চাঞ্চল্যের লক্ষণ গতি

এই পাশ্চাতোর আঘাত সমস্ত বাঙ্গালা জাতির উপরে কিছু একদিনে পতিত হয় নাই। ইহা সহসা বারি-প্রপানত নহে। ইহা শিশির বিন্দুর মত অলক্ষো

বাঙ্গালী জাতির | মিনারে পতিত হইয়াছে শতাব্দী কাল ধরিয়া দিনের পাশ্চাত্য ভাব পর দিন এই আধাত আসিয়াছে প্রতি দ্বারা প্রথমতঃ

দশ বশুসপর অন্তর 1র রূপ উড স্তর এই আঘাত তাহ

বদলাইয়াছে, স্বর বদলাইয়াছে। এই. আঘাতের এক সম্মোহন শক্তি ছিল, আমর আহত হুইয়াও ইহাকে ধরিতে গিয়াছি, অনুকরণ করিতে গিয়াছি। আবার কে কেহ মুখ ফিরাইয়া আত্মরক্ষা করিবার চেষ্টাও করিয়াছি। তথাপি বাঙ্গালী জাতির সব ' অংশটা পাশ্চাত্যের এই আঘাত দ্বারা আহত হয় নাই। যে অংশ আহত হয় নাই,_-জাতির প্রাণশক্তির স্বাভাবিক প্রেরণায় তাহাতেও চঞ্চল জাগিয়াছে।

বাঙ্গলা় উনষিংশ শতাধ্দী সেই অংশই জাতির নিন্নতর অথচ বড় অংশ। অথচ আমরা তাহার সংবাদ অতি অল্পই রাখি! বাহিরের কৃত্রিম আঘাতে মুষ্টিমেয় তথাকথিত শিক্ষিত বাক্তির মধ্যে ষে কৃত্রিম চাঞ্চল্য জাগিয়াছে তাহাই আমাদের দৃষ্টিকে সমধিক আকর্ষণ করে। জাতির বড় অংশটা দৃষ্টির বাহিরে থাকিয়া যায়। এইরূপে জাতির যে অংশটা পাশ্চাতোর ভাবাদর্শ দ্বারা আহত হইয়াছে, সে অংশটাও শিক্ষা দীক্ষায় এক এবং অথ ছিল না। মানুষ মাত্রেই বিচিত্র বিশেষতঃ রী দি জাতির ভাঙ্গা গড়ার যুগের মনুস্কেরা অভীব তাহার কারণ। বিচিত্র এইরপে বিভিন্ন প্রকৃতির বিন্চিন্ অংশের উপর, দিনের পর দিন পাশ্চাত্যের যে সমস্থ বিচিত্র রকমের আঘাত আসিয়া পতিত হইয়াছে, তাহাতে আমাদের মধ্যে জাতীয় চাঞ্চল্ের বহুবিধ ধারার স্ৃষ্ঠি হইয়াছে। | (এইরূপে জাতীয় চাঞ্চলোর শতাবদীব্যাপী বহুবিধ নেীত- নী হা ররর ধারা কখন মিলিত হইয়া, কখন বিচ্ছিন্ন ্বামী বিবেকাঁদন্দে হইয়া, কখন এক পথে, কখন বিপরীত পথে, এই বছবিধ ধারার কখন একটান শ্রোতে, কখন ঘুরিতে ঘুরিতে, এত মাবেশ। একদিন শতাব্দীর প্রায় শেষভাগে, স্বামী বিবেকানন্দে আসিয়া! জমিয়া ভরিয়া উঠিয়াছে ।) কোন একটি বিশেষ আোতধারার সহিত স্বামিজীর জীবনের বিশেষ ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকিতে পারে। কিন্ত্র শতাবীর শেষভাগে অল্লাধিক প্রায় সকল জোতধারাই, তাহার মধ্যে. আসিয়া, তাহাদের পুণ্য-তীর্থ-বারি সিঞ্চনে_এই তেজন্থী

নি

ছ্বামীবিবেকাননী

প্রাণের, এই প্রবুদ্ধ বিবেকের অভিষেক করিয়া গিয়াছে,_ ভাহার প্রতাক্ষ প্রমাণ বি্ছ্কামান এবং ইতিহাস প্রতাক্ষকে গ্রহণ করিতে বাধ্য

যে কোন দিক দিয়া বিচার করিলে স্পষ্ট দেখিতে পাওয়া যাইবে যে, শত বগুসরের জাতীয় চাঞ্চল্য, যাহা ইতস্ততঃ

বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িতেছিল, তাহ শতাব্দীর 0 শেষভাগে নানা দিক কেন্দ্র হইতে আহত ছা সংহত হইয় বাণী লাভ করিয়াছিল স্বামী বিবেকানন্দের ক্টে। স্বামী বিবেকানন্দ

একটা জাতির দীর্ঘ এক বিচিত্র বিক্ষিপ্ত শতাব্দীর যোগফল এই দিক হইতে দেখিলে, তাহার কথার কার্যের এঁতিহাসিক গুরুত্ব সম্বন্ধে আমাদের ধারণা সহজেই স্পষ্ট হইয়! উঠিবে |

এক শতাব্দী ধরিয়া জাতীয় জীবনের নান! বিভাগে যে চাঞ্চলা জাগিয়া উঠিতেভিল তাহার যথার্থ বর্ণন! এক প্রবন্ধে অসম্ভব যে সমস্ত ভাব প্রেরণ! সুস্পষ্টরূপে এই জাতীয় চা্চল্যের মধো একটা বিশেষ আকার বাণী লাভ করিয়া- ছিল,-_ইতিহাসের পারম্পর্ধা রক্ষা করিয়া, তাহাদের ক্রমবিকাশ গতি, এবং স্গামী বিবেকানন্দের মধো সেই সমস্ত ক্রমবিকাশ- মান গতিশীল ভাব প্রেরণাসমুহের কিরূপ পরিবর্তন, স্থল বিশেষে প্রতিবাদ, এবং পরিণতি হইয়াছিল, অগ্যকার প্রস্তাবিত বিষয়ে আমাদের তাহাই আলোচা

বাঙ্গলায় উনবিংশ শতা্ী উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ €(১৮০০--7১৮২৫)

আমরা বাঙ্গালীর উনবিংশ শতাব্দীকে চারি ভাগে বিভক্ত করিয়া, তাহার প্রথম ভাগে জাতীয় চাঞ্চলোর যে কয়েকটি ধারা বিশেষ ভাবে ফুটিয়া উঠিয়া, শতাব্দীর দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ ভাগে, ন্বামা বিবেকানন্দের অভ্যাদয়ের কাল অবধি, কখন স্বতন্ত্র বিচ্ছিন্ন হইয়া, কখন বা মিলিত মিশ্রিত হইয়া, কোথায়ও খু, কোথায়ও বা বক্র-কুটিল গতিতে, ধাবিত হইয়াছে, তাহার গতি বিধি যথাসাধা পর্যালোচনা করিব। ভিন্ন ভিন্ন ভাবরাশির এই সমস্ত বিচিত্র শ্োত ধারা কোন পথে কোথায় কোন মহাপুরুষের মধো, কিরূপ আকার শক্তি লাভ করিয়াছে, তাহাও প্রসঙ্গত; আমাদের দেখিতে হইবে। শতাব্দীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাগে যদি কোন নুতন ভাবন্োতের উৎপত্তি হইয়া থাকে, তবে তাহার গতিকেও বতদুর পারা যায়, লক্ষা করিতে হইবে |

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পাশ্চাতোর বহিরাক্রমণ ১৮৯৮--১৪২৫এর « শিচুত চারিটি বিশেষ বিশেষ 4 মধ্যে জাতীয় তজআোত আমাদের দৃ্টিগোচর হয়। এই চাঞ্চব্ের চারিটি চারিটি বিচিত্র ধারার মধো তিনটির উৎপত্তি যার কলিকাতায়, অপর একটিও কলিকাতার অতি নিকটবর্তী শ্রীরামপুর হইতে জন্ম লাভ করে।

(১) শ্রীরামপুরের পাত্রীগণ বাঙ্গাললীকে খ্রষ্টান করিবার জস্ত যে প্রাণপণ,-যে ধর্ন্মান্দোলন-_ষে মুক্তিপৃজার বিচার,

১১

স্বামী বিবেকানন্দ

যে হিন্দুর ষড়দর্শন পুরাণ তন্ত্রের ব্যাখ্যা,__বাজলাভাষার গগ্ভ ব্যাকরণ স্থিত যে উদ্ভম,-সংবাদপত্র প্রকাশ ছাপাখানার প্রতিষ্ঠায় যে খুষ্টানী সংস্কার-্পৃহা জাগ্রত করিয়াছিলেন,__তাহ নিশ্চয়ই সংস্কারযুগের একটি স্বতন্ত্র ধারা- রূপে ইতিহাসে গৃহাত হইবে |

(২) হিন্ু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর,--তাহা হইতে ধেরূপ একটি বিশুদ্ধ অহিন্দু সংস্কারলোত প্রবাহিত হইল, তাহার স্দান্ন্ত্যগৌরবও কম নয়। ডিরোজীও এবং তাহার শিষ্যদের ঘে একটি ক্ষুদ্র স্বাধীন চিন্তাবাদীদের দল সংগটিত হইল,_ হিন্দুসমাজের বিরুদ্ধে তাহাদের প্রকাশ্য নির্ভীক আক্রমণ, বিপ্লববাদের অঙ্গীয় স্বাভাবিক ছুই চারিটি উচ্ছঙ্খল আচরণ দেখিয়া অনেকেই তেজস্বী মহাপ্রাণ ডিরোজীওর দেশগ্রীতি, সত্যনিষ্ঠা স্বাধীনতা স্পৃহা, যাহা তাহার মনন্বা শিষ্যদের মধ্যেও বিশেষরূপে সংক্রমিত হইয়াছিল, তাহা ভুলিয়া যান। এবং ভুলিয়া গিয়া এই তীক্ষমেধা মহানুভব যুবকের প্রতি তাহার অনুষ্ঠিত সংস্কার উদ্ভমের প্রতি যে বিচারে প্রবৃত্ত হুন, তাহা অনেক স্থলেই নিতান্ত অবিচার !

(৩) রাজা রামমোহন রায়ের রংপুর হইতে কলিকাত। আগমন, উপনিষদ বেদীন্তপ্রচার, বেদান্ত প্রতিপাস্ত এক অদ্বিতীয় নিরাকার পরক্রন্মের উপাদনার বিধি, পণ্ডিতদের সহিত বিচার, তুহাফ তুজমোহারিদ্দিনের পরে, রাজার মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শান্তর ব্যাখ্যা শাস্ত্রের পক্কোন্ধার, সতীদাহ নিবারণ, ক্রক্ষদতার উদ্বোধন, স্তীরামপুরের পাত্রী দিগকে

১২

বাঙ্গলায় উনবিংশ শতানবী,

দিদদ তাহাদের ভ্রম সংশোধন, রাজার বিলাত গমন_ প্রভৃতি এক বিশাল, প্রবল, প্রচণ্ড ধারা

(8) রামমোহনের বিরুদ্ধে সমগ্র রক্ষণশীল বাঙ্গালী হিন্দুসমাজের মুখপাত্র স্বরূপ স্যার রাধাকান্ত দেবের সংরক্ষণ- নীতি, রামোহনের ব্রঙ্গসভার বিরুদ্ধে রাধাকান্তের ধণ্মসভার প্রতিষ্ঠা,_-ও সুর্তিপৃক্ঞার সমর্থনকারীর শাস্জ্রালোচনা প্রভৃতি আর একটি ধারা রামমোহন প্রতিত্বন্্বা রাধাকান্তের স্ত্রীশিক্ষায়

অনুরাগ স্ত্রীশিক্ষা ক্লে তাহার ধারার এক অতি গৌরবময় কান্টি।

[লন এই রক্ষণশীল এবং ইতিহাস ইহা

. বিশ্বাত হইতে পারে না।

এই চারটি ধারা অল্লাধিক তন্ত্র বিচ্ছিন্ন

এক জাতির মধো বলিয়া ইহাদের মধো যে একটা এঁকা

এই ৪টি ধারাই

(ক) পরস্পর আছে তাহা কখনও স্ুপরিস্ফুট হইয়া! কোন- বা রূপ শুর পায় নাই। ইহার প্রাতাকটিই নৃতন তরঙ্গবিশেষ। ইউরোপের সংঘাত জনিত। প্রত্োকটিই (গ) ইংরেজী অল্লাধিক মুষ্টিমেয় শিক্ষিত বাক্তিদের মধ্যে সি আবদ্ধ। প্রত্েকটিই কলিকাতার নব (ঘ) কলিকাতাঁর নাগরিক সংস্কার অথচ আমরা বিস্মৃত উপর ইংলণ্ড ও. হইব না যে, বিশাল বিস্তৃত সমগ্র বঙ্গদেশের ফ্রান্সের আঘাত

পরহথত, ইহা সমগ্র মধ্যে কলিকাতা তখন কতটুকু যে জাতির নহে। নাগরিকগণ পাশ্চাত্যের এই ঘাত প্রতিঘাত জাতির স্বাভাবিক রূপ ছুই বিরুদ্ধ শক্তির বিপরীত টানে ক্ষুনধ আগরণও নহে

চঞ্চল হইয়া! উঠিয়াছিল, সমগ্র বাঙ্গালীজাত্তির

মধ্যে তাহারাই বা কোন্‌ ক্ষুদ্র অংশ তথাপি আঘাত যেখানে

১৩

২. স্বঃমী বিবেকানন পাইবে সমাজনঙ্গের সেইখানেই প্রতিঘাত জাগিবে জীব-শরীর

হইতে সমাজ-্শরীরেপ ইহাই অল্লবিস্তর পার্থকা বাহির হইতে কলিকাতার উপর যে কৃত্রিম আঘাত আসিয়া পড়িয়াছিল, এই কৃত্রিম জাতীয় চাঞ্চল্য সেই আঘাত জনিত বিক্ষোভ মাত্র এবং এই সমস্ত বু বিক্ষোভের ধারা, প্রকৃতি শিক্ষাভেদে, এই জাতীয় চাঞ্চলোর বিভিন্ন রূপ বিভিন্ন প্রকাশ

এখন আমরা দেখিব ইহার কোন ধারা কতদুর পর্য্যন্ত প্রবাহিত হইরা শতাব্দীর দ্বিতীয় তৃতীয় ভাগে কিরূপে পরি- হি কারা বগ্ডিত হইয়া, চতুর্থ ভাগে স্বামা বিবেকানন্দের জীবনে এই সমস্ত মধো মিলিত হইয়াছে এবং তাহার মধ্যেই খগুধারার কিন্ধূপ বা ইহার কিরূপ পরিবন্তন পরিপুষ্ঠি সারি সাঁধত হইয়াছে ইহার কোন্‌ ধারাই বা আবার মধাপগে লুপ্ত ভইয়া ্বামা বিবেকানন্দ পর্য্যন্ত পৌছাইতেই পারে নাহ কোতমুখে কোন খণ্ড ধারার উৎপত্তি হইয়াছে কিনা? এবং এই বিচিত্র চারিটি ধারা পথে আসিতে আসিতে মিলিত হইয়াছে কিনা সে মিলনে মিলিত ধারার আোতাবেগ বৃদ্ধি পাইয়াছে, না বিরোধ জনিত আবর্তের স্থৃগ্টি করিয়া, ক্লেদ পঙ্ট বমন করিতে করিতে নিঃশেষিত হইয়াছে ? স্বামী বিবেকানন্দ এই ক্রোতাবর্তের পরিণতি নিজ জীবনে কিরূপে ধারণ করিয়াছেন ? তাহার ব্যাপক গভীর জীবনের সাগর সঙ্গমে-এই সমস্ত খণ্ড ধারা এক অখণ্ড উদ্বেলিত সমুদ্রের মত কিরূপ গর্ভন করিয়াছে,_-সে গঞ্জনের-__সে আরাবের সঙ্কেত কি, ইঙ্গিত কি-_আমরা তাহাও দেখিব।

১৪

বাঙলায় উনবিংশ ্খী রঃ উনবিংশ শতাব্দার দ্বিতীয় তীয় ভাগ |

(১৮২৫--১৮৭৫)

উনবিঃশ শতাব্দীর দ্বিতীয় তৃতীয় ভাগ লইয়া যদি আমরা আলোচনী করি, ভবে দেখিতে পাইব--

(১) মহান্ুভব উফ. সাহেব, শ্রীরামপুরের পাত্রীদের আরন্ধ সংস্কারকাধ্যের ধারাকে অনেকটা গতিমুখে রাখিয়া- ছিলেন হিন্র্ুকে শ্রীরামপুরের পাত্রাগণ যেরূপ আলণ করিয়াছিলেন,”_ডকও তীহাদেরই হনুকরণে হিন্দুধার্মোর মৃত্তি পুজা বিশেষভাবে অদ্বৈতবাদকে আাক্রমণ করিয়াছিলেন

শিক্ষাপ্রচারেও মভাম্বা ডফের উদ্ম না নি প্রীরামপুারের পাপ্রাদের মতই প্রশংসনায়। তীব্র প্রতিবাদ। . বাঙ্গালীকে থুষ্টান করিবার অভিপ্রায়েও

ডক অগ্রগামাদের পদচিজই অনুসরণ করিয়াছেন কিন্তু শতাব্দীর চতুর্থ ভাগে পৌছিবার পূর্ব্ব হইতেই শিক্ষিত বাঙ্গালীর মধ্যে এই ধারা যথেষ্ট নিস্তেজ হইয়া আসিতেছিল। তথাপি স্বামা বিবেকানন্দের জাবনে এই ধারা এক অতি ভীষণ প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এক প্রচণ্ড বিরুদ্ধ ধারার সষ্টি করিয়াছিল। খুষ্টানজাতিদিগের মধো দ্দামিজীর হিন্দুধর্ম প্রচারই এই প্রতিক্রিয়ার উজ্্বল দুষ্টান্ত। সংস্কারযুগের, খৃষ্টান পাডরীদের চেষ্টার বিরুদ্ধে ইহা এক প্রবল পাণ্টা জবাব তাহার স্বধধ্মনিষ্ঠা স্বাজাত্যাভিমান অংশে পরিপূর্ণরূপে দেদীপামান। স্বামিজীর অদ্বৈতবাদ প্রচীরকেও আমরা এই ধারার বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদম্বরূপ গ্রহণ করিতে পারি।

১৫

স্বামী বিবেফাবন্দ

(২) ডিরোজীও তৎশিষ্যদের যে শ্রোত-ধারা, তাহা ধারাবাহিকরূপে পরবর্তীকালে অব্যাহত থাকে দাই মাত্র ১৩ বতসর বয়সে ডিরোজীওর মৃত্যু হয়। ডিরোজীণ্তর অকালমৃত্যুই এই ধারার গতিবেগকে সহসা অপ্রত্যাশিতরূপে বিলুপ্ত করিয়া দিয়াছে এতদাতীত ডিরোজীওর শিহ্যগণ অনেকেই খৃষ্টান হইয়াছিলেন এবং প্রায় সকলেই অল্লাধিক প্রচলিত হিন্দুধর্ম সমাজের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ শেষ পর্য্স্ত করিয়া গিয়াছেন। কাজেই হিন্দুসমাজে তীহাদ্দের স্থান হয় নাই। এবং নিজেরাও কোন স্বতন্ত্র সমাজ প্রতিষ্ঠা করিতে পারেন নাই। তথাপি তাহারা সকলেই অসাধারণ তেজন্দী মেধাবা ছিলেন, এবং উগ্র ব্যক্তি-ম্বাতন্ত্রোর পথিক হইয়া এক এক কেন্দ্র বাবিভাগে একক ফড়াইয়া তাহাদের স্ব স্ব ধারণার অনুবন্তী দেশগ্রীতি অসাধারণ ক্ষমতার পরিচয় সংস্কার যুগের ইতিহাসকে উপটৌকন দিয়া, লুপ্ত হইয়। গিয়াছেন

ন্গামী বিবেকানন্দের ধশ্মজীবনের বিকাশের একটি স্তরে ষে উগ্র বান্তি-স্বাতন্্রা নাস্তিকাবাদের আভাষ আমরা পাই,

তাহার তুলনা এক ডিরোজীও বা তৎ ডিরোছিও ধারার শিশ্যদের জীবনেই মিলে কিন্ত দ্বামিজী অনুরূপ আভাষ শ্বামিজীর জীবনের তাহার নান্তিকাবাদ কেছকে অনুকরণ করিয়া একস্রে আপনিই গ্রহণ করিয়াছিলেন,--এরূপ মনে করিবার কা কোন হেতু নাই। তীহার স্বভাবের ক্রমে তিনি ইহা অতিক্রম করেন। বিকাশে উহ্থা একসময়ে আপনিই ফুটিয়া- ছিল, এবং সেই বিকাশের পথেই তিনি

ইহাকে আত্মবল্লেই অতিক্রম করিতে সন্গন্ম হইয়াছিলেন

বালা উনবিংশ শতাবী

(৩) রামমোহনের ধারা রাজার মৃত্যুর পর স্থদীর্ঘ ১৪ রামমোহনী ধারার বৎসর নিষ্ঠাবান আচার্য রামচন্দ্র বিদ্ভাবালীশ ক্রম পরিণতি | মহাশয়, নানাবিদ্ের মধ্যে অগ্নিহোত্রীর মত রক্ষা করিয়াছিলেন

মহধি দেবেন্দ্রনাথ, প্রপম অক্ষয় রাজানারায়ণকে সঙ্গে লইয়া, এবং পরে ব্রঙ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সত্যনি্ঠ বিজয়- কুষণকে দলভুক্ত করিয়া,_-উনবিংশ শতাকীর দ্বিতীয় তৃতীয় ভাগে যথাক্রমে যে ছুইটি পরিপূর্ণ জোয়ার রামমোহনের ধারার মধ্যে আনয়ন করিয়াছিলেন আমরা এইক্ষণে তাহার আলোচন! করিব। রামমোহন শ্রীরামপুরের পাদ্রাদের বিরুদ্ধে যে যে বিষয়ে যেরূপ প্রতিবাদ করিয়াছিলেন, দেবেন্দ্রনাথের তত্ব- বোধিনীর দল, মুখ্যতঃ রাজাকে অনুকরণ করিয়া, ডফকেও সেইরূপ ভাবেই প্রতিবাদ করিয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে রামমোহনের 079 33120205571001078.522709 চারি

ংখ্যা তন্ববোধিনী সভার ড21951760 0০0০%7168 ৬1100108690 চারি সংখ্যা মিলাইয়া দেখিলেই আপনারা বুঝিতে পারিবেন |

রাজার 1179 7281)10870102] :110072109গুলির প্রতিপাদ্ হইতেছে,_হিন্দুর শাস্ত্র দর্শন এক নিরাকার নিগুণ পরব্রন্মের উপাসনার বাবস্থা দিয়াছেন পরমাত্া নিপুণ নিরাকার। মনুষ্যোচিত কোন গুণ তাহাতে আরোপ করা যায় না বা থাকিতে পারে না। এই পরমান্মার কোন গুণ নির্দেশ করা যায় না। আত্মায় পরমাত্মায় অভেদ চিন্তুনই প্রকৃত. বৈদাস্তিক উপাসনা এবং তাহাই সমগ্র হিন্দুশাস্ত্ের

১৭

স্বামী বিবেকানন্দ অনুমোদিত সর্ব্বচ্চ উপাসনা অবশ্য নিন্নাধিকারীর পক্ষে হিন্দুশান্ত্রে মুত্রিগূজা শ্বগুণ ব্রন্মোপাসনার বিধিও আছে বেদান্-দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে রাজা রামমোহন ন্যায়, সাংখ্া, পাতগ্রল প্রভৃতি অন্যান্য দর্শনের আলোচনাও ইহাতে করিয়ান্েন। কেননা শ্রীরামপুরের পার্রীগণ যেমন একদিকে নিগুণ ব্রন্দের উপাসনা হইছে পারে না বলিয়া আপত্তি তুলিয়াছিলেন, তেমনি অন্য দিকে বেদের মধ্যে প্রকৃতিপুজা, জড়োপাসনা প্রভৃতিকেও আক্রমণ করিয়াছিলেন রাজা রামমোহন এই সমস্ত আপত্তি দার্শনিক বিচার পদ্ধতি অবলম্বন করিয়া যথাযথ খণ্ডন করিয়াছেন

দেবেন্দ্রনাথের তন্বাবোধিনী সম্প্রদায়ের ড৬8৪1087101 [)০9০11105 ৬1001689 নিবন্ধগুলির প্রতিপাদ্ধ হইতেছে যে-এক নিরাকার শিশুণ পরত্রদ্দের উপাসনা সম্ভব এবং ব্রন্মে মানবীয় কোন গুণ আরোপ কর বাইতে পারে না। মহাত্মা ডফ শ্রীরামপুরের পান্রীদের মত হিন্দুর অন্যান্য দর্শন বেদের পূর্ববভাগ সন্ধন্ধে কোন আপত্তি তুলেন নাই বলিয়া, ইহাতে 13:01)100101001700180%17এর মত সব বিষয়ে কোন আলোচনা নাই শ্রদ্ধেয় রাজনারায়ণ বস অথবা মহষি দেবেন্্নাথ ইহার রচয়িতা বলিয়া বাহার নির্দেশ করিয়াছেন, আমি তাহাদের সহিত একমত হইতে পারি না। আমি মহধি দেবেন্দ্রনাথ আলোচনা প্রসঙ্গে অন্যত্র বলিয়াছি এবং পুনরায় এখানেও বলিতেছি যে স্বর্গীয় চন্দ্রশেখর দেব ইহার রচয়িতা

আমার ধারণা ৬৪10917610 19090611095 ড10010890

১৮

বাঙ্গলায় উনবিংশ শতাঙ্ষী

নিশ্চয়ই 109 87070871081 078292179 গুলির অনুকরণ | কিন্তু যেমন সর্ববত্র, তেমনি ক্ষেত্রেও অনুকরণ কখনই মূলের সমতুল্য নহে।

কেননা ড৪1091000 19000717168 ৮৪100108190; [16 87817008701081] 108848109এর মত স্থানে স্থানে অক্ষরে অক্ষরে তুলিয়া ধরিয়াছেন

তবে রামমোহন বে ভাবে হিন্দুর শান্ত্রকে আলোচনা করিয়া গিয়াছেন,_তৎসন্বন্ধে নানারূপ পরস্পর বিরোধী মতবাদ থাকা সন্ত্রেড আমি দুঃখের সহিত বলিতে বাধ্য হইতেছি যে, রামমোহন অন্ুবন্তী কোন সংস্কারকই রাজার শান্্রবাখ্যার মর্যাদা রক্ষা করিতে পারেন নাই। বেদের প্রামাণা সম্বন্ধে রাজার যে অভিমত, তুহাফতুলমোহায়িদ্দিন গ্রন্থের পরে, দেখা গিয়াছিল,_ রাজার অন্রবত্তীয়েরা কেহই তাহা অনুকরণ করিতে সক্ষম হন নাই যীহারা চেষ্টা করিয়াছেন তাঙারাও অক্তকাষা হঠয়াছেন। ইহার প্রতাক্ষ প্রমাণ বিদ্কমান। রামমোহন তরঙ্গের যে স্ররূপ নির্দেশ করিয়া গিয়াছিলেন-_-এবং ব্রন্মোপাসনার যে পদ্ধতি দেখাইয়া দিয়া- ছিলেন, ্রাহার পরবস্তীয়েরা তাহা অবলম্বন করেন নাই। এবং না করিবার হেতু তাহারা নির্দেশ করিয়াছেন পরবীয়দের মতে বিশেষতঃ দেবেন্দ্রনাথের মতে নিগুণ ত্রশ্মের উপাসনা অসন্ভব। সমাজসংক্গারেরও যে পন্থা রামমোহন প্রকৃষ্ট মনে করিয়াদ্রিলেন, এবং নিজে ভদ্বিষয়ে যেরূপ ধারতা দৃটতার সহিত অগ্রসর হইতেছিলে ন, রামমোহন শিষ্যেরা,_তাহাও সম্ভবতঃ বুঝিতে না পারিয়া পরিত্যাগ

১৯

স্বামী বিবেকানন্দ

করিয়াছিলেন | ধ্ধর্, সমাজ, বাবহার রাত্রী়-সংস্কার থে অঙ্গাঙ্লীযোগে আবদ্ধ তাহা রামমোহন বৃঝিয়াছিজেন, পরবর্তীয়ের! বুঝেন নাই। এই প্রসঙ্গে তথাকথিত রামমোহন শিহ্যদের সস স্্ প্রতিভার স্লাতন্ব্া গৌরব যে অন্দীকার করা হইতেছে তাহা নহে। ডো তাহারা নিজদিগকে রামমোহন-পন্থী বলিয়। রে চা পরিচয় দিয়া রামমোহনকে কোথায়ও জ্ঞাত- রামমোহন হইতেই সারে এবং অধিকাংশ স্থলেই অন্ঞ্াতসারে জাতির সপ্প্রসারণ অকারণে এত অধিক পরিত্যাগ করিয়া শক্তি দেখা রর ভিরাছে। চলিয়াছেন যে, রামমোহন-পন্থী বলিযা তাহাদের পরিচয় দিলে রাজার উপর অবিচার করা হয়। রাজার সম্বন্ধে অতান্ত ভ্রান্ত ধারণা কুসংস্কার আজ শতাব্ী কাল ব্যাপিয়া বাঙ্গালী জাতির মধ্ো প্রশ্রয় পাইয়া আসিতেছে এবং তজ্জন্য আমরা যেরূপ দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছি তাহার জন্য কেহকে দায়ী করিতে হইলে রাজার পতাকাবাহী অনুবন্তয়েরাই সর্বপ্রথম এতিহাসিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবেন মহাপুরুষকে না জ্ঞানা দুর্ভাগা ভূল করিয়া জানা আরো দুর্ভাগ্য কিন্তু মহাপুরুষ সম্বন্ধে নিজের ভ্রান্ত ধারণা, জাতির মধো সংক্রামক করবার চেষ্টা পাপ পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বামী বিবেকানন্দ কতকটা করিয়া গিয়াঠেন। আমাদের আর্ট অনেকের করিতে হইবে এই প্রসঙ্গের উল্লেখের আর একটি বিশেষ কারণ এই যে স্বামী বিবেকানন্দ,_রাজা রামমোহন হইতেই বাঙ্গালী জাতির যুগে সম্প্রসারণ শক্তির অভ্াদ্য় হইয়াছে .এরূপ নির্দেশ

চু

বাঙ্গলায় উনবিংশ শ্ভান্ী

করিয়াছেন রামমোহনকে তিনি অন্যান্য সংস্কারকদের হইতে পৃথক করিয়া দেখিয়াছেন এবং তাহাকেই একমাত্র গড়িয়া তুলিবার বা উদ্ভাবনী-শক্তি-সম্পন্ন সংস্কীরক বলিয়া! বন্থ সম্মান ; করিয়া গিয়াছেন। রামমোহনের পরবর্তীদিগকে তিনিও রামমোহন হইতে শ্মলিত বিপথগামী মনে ব্রামমোহন হইতে তাহার অন্থুবতীয়েরা করিয়া তাহাদের তীব্র প্রতিবাদ করিতে স্থলিত ভাত বা কুষ্টিত হন নাই কাজেই সংস্কারযুগ নিলি প্রসঙ্গে রাজা রামমোহন সম্বন্ধে স্বামী বিবেকানন্দের স্বাধীন মতকে আপনাদের সমক্ষে আমি খুব স্পষ্ট করিয়া বলিবার একান্ত প্রয়োজন বোধ করিতেছি এবং দীর্ঘ এক শতাব্দীর সহিত সংশ্লিষ্ট স্নামিজীর জীবন আলোচনায় রামমোহন প্রসঙ্গও যে প্রচুর পরিমাণে আসিয়া পড়িবে তাহাও আগে হইতেই আপনাদিগকে বলিয়া হয়ত আপনাদের শঙ্কা বৃদ্ধি করিলাম উনবিংশ শতাব্দার দ্বিতীয় তৃতীয় ভাগে বস্তুতঃ রামমোহন- পশ্থারা কেবল এক মূর্তিপূজা অস্বীকার ব্যতিরেকে, আর সকল বিষয়েই রাজাকে উপেক্ষা করিয়া অনেকটা বাহিরের কৃত্রিম আঘাত জনিত উচ্ছৎ্খল বাক্তি-স্বাতন্তের পথে উত্তান্ত পদক্ষেপে বিচরণ করিয়া গিয়াছেন। মহুধি দেবেন্দ্রনাথ বিশেষ করিয়া অনুধাবন করিয়া দেখিলে দেখা যাইবে যে, উপরোক্ত সমালোচনার অন্তীত নহেন। এমন কি মুর্তিপৃজার অন্বীকারেও, রামমোহন শাঙ্সব্যাখ্যার মশ্মানুযায়ী ছুর্ববল অধিকারীর অন্য মুত্তিপৃ্জাকে যেরূপ প্রয়োজন বোধে স্ছান

গ্বাী বিবেকাননাঁ করিয়া শিক্ষা, প্রবৃত্তি স্তরভেদে বিভিন্ন লোক চির সম্বন্ধ এবং হিন্দুর ধর্ম-সাধন-পদ্ধতির স্বাধীনতা সম্বন্ধে, বিশিউরূপ অজ্ঞতারই পরিচয় দিয়াছেন ক্ষেত্রেও রাজা রামমোহন স্বামী বিবেকানন্দের মতে পার্থকা সন্বেও,_যেরূপ সাদৃশ্য দেখা যায়, রামমোহনের অনুবর্ভায়দের সহিত তন্্রপ সাদৃশ্য কোথায়ও দৃষ্টিগোচর হয় না আমি সেকথা আপনাদিগকে ক্রমে বিস্তাতভাবে বলিব, আশা! করিতেছি

রামমোহনী ধারার শতাব্দীর দ্বিতীয় তৃতীয় অংশে, এই এক ধারা হইতে আরো খগ্ড ধারার উদ্ভবে হইল দেবেন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ জ্ভানযোগী অক্ষযকুমারের প্রতিবাদ

সত্যই-_এক খণ্ড ধারার সৃষ্টি করিয়াছিল, রামমোহনী ধারার যদিও সংস্কার যুগের ইতিহাস-__এই উপধারা সকল ক্রমশঃ নিস্তেম ধারাটিকে একরূপ বিলুপ্ত করিবার চেষ্টাই নিশ্রভ। এতাব করিয়া আসিতেছিলেন। রামমোহন বিশ্তত রামমোহন-পস্থীরা ক্রমে বেদ

স্রাক্মধন্্ন স্থলণে, শান্তর সংগ্রহ লইয়া, জাতিভেদ অসব্ণ বিবাহ লইয়া,--কেশবচন্দ্ের আদেশবাদ স্ত্রী-স্বাধীনতা লইয়া উত্তরোত্তর ত্রিধারায় বিভক্ত হইয়া গেলেন এবং কালক্রমে ইস্থার প্রত্যেক ধারাই নিস্তেজ অবসন্ন হইয়া পড়িল।

ফাহারা ইতিহাম গড়েন, তাহারা সাধারণতঃ ইতিহাস লেখেন না। ীহারা ইতিস্াস লেখেন তাহারা হয়ত বা অনেক ক্ষেনে ইতিহাস গড়েনও। রামমোহন*পন্থী অক্ষয়কুমার দেবেন্দ্র-পম্থী রাজনারায়ণ বাঙ্গালীর সংস্কারযুগের ইতিহাস গড়া লেখাতে প্রায় সঙ্গানভাবে শক্তি নিয়োজিত করিয়া-

চর

বাঙ্গলায় উনবিংশ শতাবী

ছিলেন। এই ছুই মনীষীর মত-পার্থক্য বিরোধ স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে অতি সাবধানে বিশেষরপে আলোচ্য জিনিয়া ভক্তিভাজন রাজনারায়ণ বাবুর “হিন্দুধর্ম্মের শইনদধর্শেরশ্রেটতা” শ্রেষ্ঠতা” “একাল সেকালে”, ধর্ম “একাল সে- বিষয়ে আমাদের স্বাজাতাভিমান, এবং কাপের প্রভাথ। একালের সংস্কারযুগের দোষোদঘাটনে আমাদের জাতীয়ভাবের প্রেরণা, ত্রোতাবস্তে ঘূর্ণিত হইতে হইতে কি পরিমাণে স্বামী বিবেকানন্দে আসিয়া আঘাত করিয়াছে আহত হইয়াছে-_তাহা কে বলিবে ?

অক্ষয়কুমারের রামমোহন অনুকারী, অথচ নিক্ষল, ষড়-দর্শন পুরাণ তন্ত্রের ব্যাখ্যায় বিশুদ্ধ যুক্তিবাদের প্রচারে, যাহা ভারে অবশ্য ইউরোপ হইতে নিবিচারে গৃহীত,_-যে মড়দর্শন পুরাণ-. সংস্কারের ধারা ফুটিয়া উঠিয়াছিল, নামী তত্র ব্যাখ্যার বিবেকানন্দের স্বধন্মনিষ্ঠায় স্বাজাত্যা- প্রতিবাদ ভিমানে তাহা কিরূপ আঘাত করিয়াছে এবং তদ্ধেতু স্বামিজীর মধো তাহার কিব্ধপ প্রতিবাদ জাগিয়াছিল এবং জাগিয়াছিল কি না, তাহাও প্রণিধানযোগ্য।

ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্রের শেষ জীবনে তাহার উদার ধর্ম্ম- উভানিদ সমন্বয়ের আদর্শ, তাহার “নববিধান” কেশবচন্দ্রে তাহার রামমোহন বিশেষতঃ অক্ষয়কুমার দেবদেবীর দার্শনিক হইতে পৃথক, পৌরাণিকযুগের হিন্দু দেব- ব্যাখ্যার প্রভাব | দেবীর দার্শনিক ব্যাখ্যা, একসময়ে কেশবাকৃষ্ট নরেক্্রনাথে কিরূপ কাধ্য করিয়া, পরবন্তী ভবনের স্বামী বিবেকানন্দে বিঘোবিত প্রচারিত হইয়াছে, তাহাও আলোচ্য

১৬০

স্বামী বিবেকানন্দ

কেশবচন্্র প্রতাপচন্দ্ের অতাধিক খৃ-গ্রীতি প্রচার এবং ব্রহ্মানন্ন কেশবচন্জ তহসঙ্গে দেশীয় জাতীয় ধর্শান্তর -ও.প্রচাপচন্দ্রের . ধর্মমসাধনার অনভিজ্ঞতা প্রতিক্রিয়ার মুখে ুষ্টানী ভাবের স্লামী বিবেকানন্দকে ধন্ধমজগতে বেদান্তের প্রতিবাদ প্রচারকরূপে আনিয়া উপস্থিত করিতে কতটা সাহাধ। করিয়াছিল--তাহা বিবেচনার বিষয়

রামমোহনপন্থা নয়,+-মথচ স্বতন্ত্র এক অতি ছুর্দম দামোদরের “প্রবল বন্যা বাঙ্গলাদেশে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কি আশ্চ্যা রকমে একদিন গর্জিঘী উঠিয়া সমগ্র বঙ্গবাসীকে ভীত চমকিত করিয়াছিল__সেহ শক্তি পৌরুষের জীবন্ত সিংহমুত্তি, সেই আগ্নেয়গিরির ভাষণ অগ্নাদগীরণ, তাহার সহিত ন্গামী বিবেকানন্দের ভাব-সংঘাত আলোচনার বিষয় কেননা] বিধবার ছু্খে বিবেকানন্দ বিচলিত হুন নাই, এমন নহে। (সেই পরম দয়ার সাগরের উদ্বেলিত তরাঙ্গোচ্ছাস গ্রামী বিবেকানন্দের “দরিদ্র নারায়ণ সেবায়” অভিষেকবারি লইয়া আসিয়াছিল কি না, কে জানে ?)

(৪) তারপর বিস্তীর্ণ বাঞ্জালী হিন্দুসমাজের রক্ষণশীল নীতির পৃষ্ঠপোষক স্তার রাধাকান্তের ভাব-ধারা অচিরেই লুপ্ত হইয়াছিল যাহারা ভাবেন, াহাদের দৃষ্টিশক্তি প্রশংসনীয় নহে। ইতিহাসের কোন ভাব-ধারাই অতি সহজে বিনষ্ট হয় না। তাহাদের গতি স্তিমিত স্তত্তিত হয় বটে, উপযুক্ত আধারের প্রতীক্ষায় তাহারা কিয়ৎকাল অদৃশ্য হয় বটে, কিন্ত সহসা একদিন দেখা যায় আবার তাহারা কোথা হইতে আসিয়া

চি

বিগ্যাসাগরী ধারা তাহার প্রভাব

আবিভ্তি হইতেছে (সাহিতোর মধ্য দিয়া বস্কিম, চন্দ্রনাথ অক্ষয়চন্দ্রের যে নবা হিন্দুহ্বের বাখা, নবীনচন্দ্র যাহার কবি-- সেই সাহিত্যান্দোলনের ভাবধারার সহিতও স্বামী বিবেকানন্দের পরিচয় আমাদের জানিবার বিষয় পণ্ডিত শশধর তর্কচুড়ামণি কুমার ভীকৃষ্ণ প্রসন্ন সেনের প্রচারিত নবাহিন্দুর উত্ধান ধারায়, স্যার রাধাকান্তের সংরক্ষণ নীন্তির ধারাই আধারভেদে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হইয়া, প্রকট হইয়াছিল |) এই ধারার সহিত স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্ক খুব বিশেষ সন্তর্পণে ভাবিয়া দেখিতে হইবে কেননা কেবল রামমোহন ৃঁ পন্থারাই রামমোহন সম্থান্ধে ভ্রান্ত হইয়াছেন এই ৪র্থ রঙ্ষণীল. এমন নহে বিবেকানন্দপন্থাদেরও যে সে ধারার শেষ পরিণতির সহিত আশঙ্কা একেবারে নাই এমন কথা কে ্বামীক্ষির বাহ. শপথ করিয়া বলিবে ? প্রদীপের নিন্ত্েই সর্ববাপেক্ষী বেশী অন্ধকার-_-একথা যিনি বলিয়াছেন তিনি একেবারেই মিথ্যা বলেন নাই। এই ধারার সহিত স্বামী বিবেকানন্দের বাহ্‌ সাদৃশ্যের অস্তরালে কতটা মন্মান্তিক বিরোধ বিদ্যমান, তাহা সত্যকাম ফাহারা, তাহার! অনুসন্ধানে, ইতিহাসের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য, অবশ্যই অনুধাবন করিয়া দেখিবেন। ন্বামিজী বলিয়াছেন, «তোমাদের আহাম্মকিগুলিকে পর্যাস্ত কি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” ? তর্কে স্বামিজীও চুড়ামণি ছিলেন। কিন্তু শশধর- পন্থী ছিলেন না।

স্াধী বিবেকাননা উনবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ ভাগ

€১৮৭৫--১৯০৭ )

উনবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ অংশের প্রথম ভাগেই পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অভাদয় ইহা এক অতি পরম আশ্চর্য্য ঘটন|।

বাঙ্গালীর গীতি-কবিতার শ্রেষ্ঠ রূপান্তরে একদিন মহাপুরুষের আবির্ভাবের পুর্ববাভাষ সূচিত হইয়াছিল

“আজু কে গে মুরলী বাজায়। এত কতু লহে শ্যাম রায় ইহার গৌর বরণ করে আলো চুড়াটি বাধিয়া কেব! দিল বনমাল! গলে দিলা ভাঁল। এনা বেশ কোন দেশে ছিল॥

চর চণ্ডীদাস মনে মনে হাসে। এক্সপ হইবে কোঁন দেশে

চণ্তীদাসের এই ভবিষ্যদ্বাণীর পর শতান্দী যাইতে না যাইতেই সেই প্রদীপ্ত কাঞ্চনবর্প, নয়নমনাভিরাধ চশ্তীদাস র্‌ নহারার। শচীর দুলাল নবদ্বীপে আসিয়া অবতীর্ণ হইলেন বাঙ্গালীর অবতার বাঙ্গলাদেশকে প্রেমতক্তির অপূর্বব বন্যায় ভাসাইয়! দিয়া গেলেন। . বাঙ্গালী আবার, সাধক রামপ্রসাদের গানে একদিন মাজা

উঠিল। রামপ্রসাদ__“মন মাতালে, মাতিয়া বাঙ্গালীর মন মাতাইলেন।

বাঙলায় উদবিংশ শতান্ধী

“ওরে ত্রিতুবন যে মায়ের মৃর্তিঃ জেনে কি তাজান না?” গু গু শছিজ রামপ্রসাদ রটে মা বিরাজেন সর্বঘটে এই প্রতাক্ষ অনুভূতিই রামপ্রসাদের কাবোর শ্রেষ্ঠ রূপাস্তর। গানের অছিলায় ইহা কোন মোহমুগ্দর জাতীয় বেদাস্ত্বের প্রচার নহে ইহা গীত, যাহা জি একদিন, এইত সেদিন, বাঙ্গালী গাহিয়াছিল আর ইহা অনুভূতি রামপ্রসাদের গীতে, তাহার সেই আধ্যাত্মিক অনুভ্ভূতিই ফুটিয়া৷ উঠিয়াছে। কিন্তু কাব্যে গীতে যাহা! প্রস্ুট হইয়াছিল, গঙ্গাতীরে পঞ্চবটিতলে একদিন তাহাই মুক্তি ধরিয়া আসিয়া দেখা দিল * চণ্ীদাস যেরূপ মহাপ্রভুর আগমনের পূর্বাভাস, রামপ্রসাদেও সেইরাপ রামকৃষ্জের অভাদয়ের সুচনা | ইহারাই পর পর গানে মুক্তিতে, স্বরে 'ও রূপে বাঙ্গলার নাভাবিক বিকাশ এক কথায় ইহারাই বাঙ্গলার প্রাণ। ইহারাই

“যেমন চত্ডীদালের গান হইতেছে হর, আর মহাপ্রভুর জীবন হইতেছে তাহার রূপ; তেমনি রামপ্রসাদের গান হইতেছে হর আর ঞ্রামকৃষের ভীবন হইতেছে তাহার রূপ আর বা্জলার প্রাণ হষ্টতেহ এহ হুর রূপ যুগে যুগে ফুটিয়। উঠিতেছে উঠিয়ে এই অপূর্বব তত্বকধাটি বাঙ্গলার গীতি-ক্বতার একডন মৌলিক সমালোচক, বাঙ্গলার প্রাণের একজন একনিষ্ঠ সাধক, নৃকবি প্রযুক্ত চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয় আর্মীকে বলিয়াছিলেন আমি ইহা! একটি অমুলা কথ! বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি এই কথাটি নিগম্বভাবষে বাবহার করিবার অনুমতি পাইয়া গোর বৈধাধ সাধনার ভাব সম্পদে পরিপূর্ণ সেই পরম দয়াল বাক্ষির চয়খে আমি. আমার অন্তরের কৃতজত| জানাইতেছি

স৭

স্বামী বিবেকাদন

বাঙ্গালী সভাতার পী্স্থান কত জন্ম জন্ম ধরিয়া, যুগে যুগে হহারাই আসিতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ আসিলেন বাঙ্গালা তাহাকে অমনি চিনিতে পারিল।

এই-যে পাশ্চাতোর কৃত্রিম আঘাতে, রামমোহন হইতেই জাতির উপরিভাগের কিয়দংশে একটা চাঞ্চল্য দেখা গিয়াছিল, এই-বে স্বধন্্ম পরধার্্দের দুই বিপরীত শক্তির উল্টা টানে জাতি দিগভ্রান্ত হইতেডিল__এই প্রতিকূল পারিপার্থিক আবস্থা, এই বাহিরের সংঘাত আক্রমণ, এই জঘন্য পরানুকরণ মোহে মতিচ্ছন্নতার মধোই বাঙ্গালী জাতি তাহার স্বভাবধন্মের এক আশ্চর্যা বিকাশ দেখাইল | ইহা যে এফুগে সম্ভব হইল, এজন্য সতা-_বাঙ্গলার মাটি বাঙলার পথ ধন্য,___ধন্য |

কবি বাঙ্গলায় উনবিংশ শতাব্দার অতি প্রতাষেই গাহিয়া- ছিলেন__

“আপনাঁতে আপনি থেকো, যেন! মন কারু ঘরে,

যা চাবি তাই বসে পাবি, খোজ নিজ অন্তঃপুরে

পরম ধন এই পরশমণি, মা চাঁবি তাই দিতে পারে,

মন; কত মণি পড়ে আছে চিস্তামণির নাচ ছুয়ারে 1”

শতাবীর শেষভাগে সিদ্ধ মহাপুরুষ রামকৃষণে_তাহারই

প্রকাশ দেখিলাম। তিনি যে কার ঘরে যান নাই, তাহা নহে। তবে নিজ অন্তঃপুরে তিনি অত্যন্ত স্বপ্রতিষ্ঠ ছিলেন। ভার রকি: ইহা শুধু ব্যক্তিগত একটা অভ্যুদয় নয় গত অভ্যুদয় নহে, ইহা বিশেষরূপে একট! যুগধর্ম্মের সমন্বয় হুগধর্থের সমন্থয়। বিকাশ আমি আবার বলি ইছা বাঙ্গালীর স্বভাবধন্ম্ের এক আশ্চর্য প্রকাশ। কি করিয়া যে এই

২৮

বাঙ্গলায় উনবিংশ শতাব্দী নিরক্ষর দরিদ্র পৃজারী-ব্রাহ্মণের মধো এরূপ গভীর অধ্যাত্মবোধ, জগতের যাবতীয় বিরোধীয় ধর্মমত সাধনার, অনুভূতির সমন্বয় সাধিত হইল, তাহার কারণ ছুঙ্'য়। ইহার কারণ যতটা দৃশ্য, তাহা অপেক্ষা অনেকটা পরিমাণেই অদৃশ্য স্বামী বিবেকানন্দ বঁলয়াছেন যেদিন হইতে রামকৃষের অভ্যুদয় হইয়াছে, সেই দিন হইতেই বর্তমান ভারতের সূত্রপাত হইয়াছে।

বাঙ্গালার এই শ্বভাবধন্মের বিকাশে উনবিংশ শতাব্দীর

চতুর্থ ভাগে কি পরিবন্তন দেখা দিল? ইহ শ্রীরামকৃষ্ণের চস হরর নর অবির্ভাব জাতীয় শুধু পরমহ'সদেবকে আবিভূতি করিল ন! জীবনের পরিবর্তন. (১) ইহা কেশবচন্দ্রকে বিশেষভাবে পরিবর্তিত মুখে, করিল বলাবাহুলা দেশ বিদেশে কেশবচন্দ্রই ৯। কেশবচস্ত্র ২। প্রভাপচন্ত্র,। . উনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় ভাগের অবিসম্বাদিত ৩। বিজয়কষ্ঃ অদ্ভুত ক্ষমতাশালী নেতা ছিলেন। এক ৪005 যুগের শিক্ষিত বাঙ্গালীকে তিনিই পরি-

চালিত করিয়াছেন। কিন্ত্ত পরমহংসদেবের সংস্পর্শে আসিয়া তাহার যে পরিবর্তন হইল, তাহা কে মিথা। বলিবে ?

(২) খু$-ভক্ত, সাহেবীভাবাপন্ন, ইংরেজী ভাষায় স্বস্তা সবলেখক শ্রদ্ধেয় প্রতাপচন্দ্র মজুমদার মহাশয় পরমহংসদেবের সাক্ষাতে আসিয়া যে অভিমত প্রকাশ করিলেন, তাহ! কে না জানে ?

[8% চদ%7/৮ 0৮ 81552014055] 1৩9 ০0055011095 058 মিচ 2 1আ201045 ৭100812৩৬16) 05: সওজ] হা) 0175555 আ০৪৩0 [মাছে 1৩2785৩৮ জ50 +00016568

স্বামী বিবেকানন্দ

(৩) সাধু বিজয়রু্ণ সাধারণ ব্রান্ম-সমাজের ধশর্মিত উপাসনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া, কোন শক্তির প্রভাবে দ্ষিণেশরে পরমহ'দদেবের সঙ্গলাভের জন্য যাতায়াত আরম করিলেন এবং কোন শক্তির প্রভাবেই বা রদ্দ্রাক্ষ--জটা-_ গুলুধারী যুগের বহু নিন্দিত বৈষ্ণব-সাধনার সিংহ-

196 8০৪৪-019 07015000066 ৭1857207381760 01 02৩ 70581615005 00 10601221916 13907১05 1017 000৮1570000 51075156552 5555 তত, 18 5 06 2) চাও 170515৮0007. 205) 1, তত 15510762071850,08511550715175571550, 52715605052], :5০-05115৭ ৪0৩০৪/৬০ 76589008, জা] 106, 2১907, 00115515 077601180৩0, 1781 401016005, 0162201655 1750থ, 0৮০০০) ভা 9১০51 1 50 10708 00ম5 09905) 00 হাত 17 আআ সত 15760 100155911 জন ৮০০৮, এন্ড আম] সত 95015, 200 ও৮10016150510£ চএ06ভজ]) 80015 জাত 03168) 17 ৯180 জা আট আত 01500015 জাম] 99110৭৩৮ ০৫ 015 ». টিম] বাথ ৫0757 01 ]0]াগএ্রজণ 000510ক2 77155101527765 ৪00 িলমটউ। পচখেতণ ২0176600 জ0৭ আও]তো ০0100617800159179170 13151) 2৮5 আচ] 1 ৮৩598117০88 0017)552 0) নর 71570010155 01 902৫ 016 হোত 1১000 0) এআা9, [715 1055 1০ 21615)04০0 আন ওহজ4009 5 আআ, তান 09] | ৮5 200816৮7100) 00789017600 28৮ 05৮৮৮ 1006]15081 (9015 1085 19810 00880011007 যাতে 06 চা ০০তঃ900৬ (চাটা, 153107265 ৮০] ৫৪] যায হাঃ 50700515০৮5 901079518৩ আরজ 1 তত ০181৩ ০7001500075 91] 500. পা 1 দত ৮101১651615, তা

087 নাও 35৭10 1012)005 1050 আানিতিতত 90050102858 1১5 15:8১916৭ 10 এ৬, 81701581১50] ৮৮681881506 (0 155 [920 1)? 16 ২৮10761200৩ 06 চএড, ম:৫০210177585, 56708115 জটএ ছা01)151107) 10006105506 000, শক 31 00৮75 1 158919% ঢা 5 ৪৪০] ভিসা জান চিত জ]] চ2 চুতাণ্ুত 290, ০8৩৩ ১115 117৩ ৪০60 টা জারএ]জা। 5016০04জছেঠ শা যাতে 5০০ 1৩5৩ 0০1055 39:8:09970৩, গুচণ নাত 06600100116 25710776 69 15%৩1 1036 9076 16181102 91005 8০৮] 0০ ঠা চিভেছাজ] িযোচতত 8৩108 ৬10 5 80007811855 হি) 025 01558507655 ভা] 05৩116156০৫ 1জণুগোনে,

বাঙ্গলার উনবিংশ শতান্বী

িতিস মর্তিধানি বাঙ্গালীর দ্বারে দ্বারে লইয়া ফিরিলেন? এবং (৪8) কোন্‌ শক্তির প্রন্তাবেই বা নাস্তিক, তার্কিক যুবা কেশবচন্দ্রের দল ছাড়িয়া দিয়া, একদিন পরমহংসদেবের চরণপ্রান্তে আসিয়া উপনীত হইলেন? কে এবং কিসে তাহার গৌরবময় ভবিষ্যৎ জাবানের বিরাট অভ্ভাদয়কে সম্ভব করিল ? এইরূপে দেখা যাইতেছে যে, উনবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ িলাানিি অংশে পরমহংসদেৰ রামকাঞষ্জের অভ্যাদয়ের ১৮৭৫ হইতে আর সঙ্গে সঙ্গে, কেশবচন্দ, গ্তাপচন্দ্র, বিজয়- এক সমন্বয় যুগের রুষ্ প্রভৃতির মধো এক আশ্চধ্য পরি- হত, বন্ধনের ছায়া আসিয়া পড়িল। সংস্কার যুগের মন্তে ইহা যেন আর এক সমন্বয়-যুগের সুচনা করিয়া" দিল। এবং এই সমন্বয়ের মধো৪ একট! প্রতিক্রিয়ার ভাব দেখা দিল। ইতিহাসের গতি-পথে হয়ত ইহাই নিয়ম স্বামী বিবেকানন্দের সন্গবাস প্রচারের বাজ, এই সমন্থয় যুগাবতার রামকুঞ্চ হইতেই, এই তরুণ ধুবকের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হইল উনবিংশ শতাব্দীর সংস্বার-যুগের বন্ধ বিচিত্র ভাব স্বামী বিবেকানন্দের ক্রোতগুলি ভাহাতে মিলিত হইলেও, উপরে প্রীরামকষ্ণের শতাব্দার চতুর্থ ভাগের এই সমন্থয় যুগাদর্শ রি পরমহংসদেবের তদ্ভু জাবনের ধারা পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকাণন্দকে বিশেষ ভাবে চালিত করিয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই শ্রীরামকৃষ্ণ

হইতে স্বামী বিবেকানন্দের ব্যক্তিত্বে নিজস্ব বলিয়া কিছু আছে:

৩১

মন

দ্বামী